Advertisement

0

মুক্ত তথ্য পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের ফেরাতে ইন্টারপোলের প্রমাণিত উদ্যোগ

  মুক্ত তথ্য পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের ফেরাতে ইন্টারপোলের প্রমাণিত উদ্যোগ

পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। জানুন পুরো ঘটনা ও প্রমাণিত তথ্য।

মুক্ত তথ্য পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের ফেরাতে ইন্টারপোলের প্রমাণিত উদ্যোগ
 পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের ফেরাতে ইন্টারপোলের  

বাংলাদেশে জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। বিশেষত, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, দমননীতি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার কারণে। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, অন্তত ৮১ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য কর্মস্থল থেকে পালিয়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থান ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা এ কর্মকর্তাদের দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিত জানব—

কারা কারা বিদেশে পালিয়ে আছেন

ইন্টারপোলের ভূমিকা কী

সরকারের আইনি পদক্ষেপ

পুলিশের ভেতরের সংকট

এবং সর্বশেষ, জনগণের জানার জন্য জরুরি প্রশ্নোত্তর

পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের সংখ্যা ও তালিকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তত ১৩৭ জন পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তাঁদের মধ্যে ৫৬ জন ইতিমধ্যে ফিরে এসেছেন। তবে ৮১ জন এখনো পলাতক।

পদভিত্তিক তথ্য (পলাতক ৮১ জনের মধ্যে)

৩ জন ডিআইজি

১০ জন অতিরিক্ত ডিআইজি

১১ জন পুলিশ সুপার (এসপি)

৯ জন অতিরিক্ত এসপি

৫ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)

২৭ জন পরিদর্শক

৮ জন এসআই

৩ জন এএসআই

৫ জন কনস্টেবল

এ থেকে বোঝা যায়, শুধু নিম্নপদস্থ নয়, বরং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি এ তালিকায় আছেন।

বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যেসব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অবস্থান জানা গেছে—

মনিরুল ইসলাম (অতিরিক্ত আইজিপি) → যুক্তরাষ্ট্রে

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ (ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার) → যুক্তরাষ্ট্রে

হাবিবুর রহমান (সাবেক ডিএমপি কমিশনার) → যুক্তরাজ্যে

প্রলয় কুমার জোয়ারদার (অতিরিক্ত ডিআইজি) → ভারতে

সৈয়দ নুরুল ইসলাম (ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ) → ভারতে

 বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড শহরে হারুন অর রশীদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা তাঁর অবস্থানিশ্চিত করে।

ইন্টারপোলের ভূমিকা: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইন্টারপোল (INTERPOL) হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা, যার সদস্য সংখ্যা ১৯৫টি দেশ।

বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB) ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছে এসব পলাতক কর্মকর্তাদের ফেরানোর জন্য।

ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা পেতে পারে—

পলাতক কর্মকর্তাদেরেড নোটিশ জারি কর

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা

বিদেশি পুলিশের মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার

আইনগত প্রক্রিয়ায় দেশে প্রত্যর্পণ

সরকারের পদক্ষেপ

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে—

৪০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহ

প্রদত্ত পদক প্রত্যাহার

বহুজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো

অনেককে সাময়িক বরখাস্ত

 সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, "পলায়ন" একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পুলিশের ভেতরের সংকট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের মধ্যে ঢালাও মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাহিনীর মনোবলকে দুর্বল করতে পারে।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন—

"ঢালাও মামলা ও বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তারা বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কার্যকর সমাধান ছাড়া এ সংকট আরও গভীর হতে পারে।"

কেন পালালেন এসব পুলিশ কর্মকর্তা?

প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করা যায়—

রাজনৈতিক যোগসূত্র – আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়া

অভ্যুত্থানের দায় – মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ

আত্মরক্ষার চেষ্টা – বিচার এড়াতে বিদেশে পলায়ন

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কতটা কার্যকর হবে?

ইন্টারপোল সাধারণত রাজনৈতিকারণে কাউকে ফেরত পাঠায় না। তবে যদি প্রমাণিত হয় যে এরা মানবাধিকার লঙ্ঘন বা আন্তর্জাতিক অপরাধে যুক্ত, তাহলে প্রত্যর্পণ সম্ভব।

এখানে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বস্ত সূত্র (Trusted Sources)

ইন্টারপোলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট

আজকের পত্রিকা রিপোর্ট

৫টি প্রমাণিত উপায়: পলাতক কর্মকর্তাদের ফেরাতে কী করা যেতে পারে?

ইন্টারপোলেরেড নোটিশ জারি

আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যর্পণ

কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি

বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ করা

জনগণকে স্বচ্ছ তথ্য জানিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

আপনি কি জানেন...?

 পুলিশের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১,৪৯০টি মামলা চলছে, যেগুলোর অনেকই ঢালাও বলে সমালোচিত।

 গত এক বছরে ৮২ জন কর্মকর্তাকে OSD এবং ৫৫ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

 ইন্টারপোলের সাহায্যে বাংলাদেশ আগে কয়েকজন অপরাধীকে দেশে ফেরাতে সফল হয়েছিল।

FAQ (প্রশ্নোত্তর)

পুলিশ কর্মকর্তা এখনো পলাতক?

 মোট ৮১ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য পলাতক।

৩. কারা বিদেশে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে?

মনিরুল ইসলাম ও হারুন অর রশীদ যুক্তরাষ্ট্রে, হাবিবুর রহমান যুক্তরাজ্যে, প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভারতে।


৫. ইন্টারপোল কি তাঁদের ফেরাতে সক্ষম হবে?

 প্রমাণিত অপরাধ থাকলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরানো সম্ভব, তবে এতে সময় লাগতে পারে।

৭. পলায়ন কি সরকারি চাকরির নিয়ম ভঙ্গ?

হ্যাঁ, সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

৯. জনগণের জন্য এর প্রভাব কী?

জনগণের আস্থায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে এবং বাহিনীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশের পলাতক কর্মকর্তাদের ফেরানো শুধু আইনি বা প্রশাসনিক ইস্যু নয়, বরং এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে সরকারের উচিত দ্রুত ও প্রমাণিত পদক্ষেপ নেওয়া। ইন্টারপোলের সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারও অপরিহার্য।

 এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইন্টারপোল কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে আসে এবং বাংলাদেশ সরকার এ সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারে।

Post a Comment

0 Comments